দূরত্ব ও সচেতনতায় ঈদ

শিরোনামে সচেতনতা

মমতাজ বেগম। গত দু’মাস ধরে মানসিক সমস্যার মধ্যে আছেন। সোজা কথায় আমরা যাকে পাগল বলি। ছয় বছর বয়সের এক বাচ্চা নিয়ে থাকেন নিজের মায়ের বাসায়। এরকম পাগলাটে আচরণ করার পর মমতাজ বেগম তার নিজের মেয়েকেও ঠিকঠাক চিনতে পারেন না।

স্বামী একজন ড্রাইভার। ঢাকা-নারায়নগঞ্জ সড়কে গত কয়েক বছর ট্রাক চালিয়ে বেড়ান। স্বল্প আয় তিনজন মানুষের দিব্যি চলে যায়।
সবকিছু চলছিল ঠিকঠাক। মাঝখানে গোল বাঁধালো কোভিড-১৯ যাকে আমরা করোনা মহামারী রুপে চিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা লকডাউনের প্রভাব বাংলাদেশের উপরও। চলছে অঘোষিত লক-ডাউন। শুরুর দিকে মানুষ কিছুটা মান্য করলেও বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। মৃত্যু সংখ্যা ৪৫০ জনের অধিক। দেশের এই ক্রান্তিকালে করোনা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঢাকা, নারায়নগঞ্জকে। এসব জায়গায় মানুষের অবাধ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আইন শৃংখলা বাহিনী। জনগণের সচেতনতার লক্ষ্যে সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ লক্ষণীয়। কিন্তু তারপরও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে চলছে শপিং, অফিস কার্যক্রম, ঘোরাঘুরি।

 

বলছিলাম মমতাজ বেগমের কথা। তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত হলেও গত ২২ মে দিবাগত রাত থেকে বেশ খুশি। কারণ তার স্বামী বাড়ী ফিরেছেন। সাথে বস্তা বোঝাই খাবার, শাড়ী গহনা, টাকা-পয়সা নিয়ে এসেছেন। এসবে মমতাজ বেগম খুশি। কিন্তু তার অজান্তেই হয়তো প্রিয় উপহার সামগ্রীর সাথে ভাইরাস কোভিড-১৯ নিয়ে এসেছেন। সে ব্যাপারে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দের নিরাপত্তা বলয় ছেদ করেই এভাবেই ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস।

 

আপনার আমার সচেতনতাই কেবল পারে এ পৃথিবীকে করোনা নামক মহামারী থেকে মুক্ত রাখতে। তাই আসুন, যে যেখানে আছি সেখানে থেকে নিজের, পরিবারের, সমাজের তথা বিশ্বের কথা চিন্তা করে এবারের ঈদ আনন্দ বিহীন ভাবে কাটিয়ে দিই।
সুস্থ থাকুক প্রিয়জনেরা, সুস্থ হোক পৃথিবী।

ঈদ মোবারক।
রাসনা শারমিন, চট্টগ্রাম